সড়কে মৃত্যুর মিছিল নিত্যদিনের বিষয়

আর কত স্বপ্ন ও আশার মৃত্যু হবে!

প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০

আশা এমন এক জিনিস, যা মৃত্যুর শেষ ক্ষণটি পর্যন্ত বেঁচে থাকে। আশায় বার বার প্রলোভিত হয়েও মানুষ তাকেই আঁকড়ে ধরে। আশাবাদী মানুষ আবার সব দেশে একরকম হয় না। একেক দেশের মানুষের আশার মাপকাঠি ভিন্ন ভিন্ন হয়। বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর সব দেশের মানুষের চেয়ে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী। তারা আশায় আশায় দিন কাটায়। ব্যর্থ হলেও হতাশ না হয়ে পুনরায় আশায় বুক বাঁধে। এমনটিই দেখা গেছে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জরিপ প্রতিষ্ঠান উইন-গ্যালপ-এর করা এক জরিপে। জরিপে উল্লেখ করা হয়, নতুন বছর নিয়ে সার্বিকভাবে শীর্ষ আশাবাদী বা সুখী দেশ বাংলাদেশ। শীর্ষ হতাশাবাদী দেশ ইতালি। বিষয়টি একটু অদ্ভুতই মনে হতে পারে। যেখানে বাংলাদেশের মানুষ নানা দুঃখ-কষ্ট নিয়ে বসবাস করে, তারাই কিনা ইতালির মতো ধনী দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সুখী! অবশ্য জরিপ বা পরিসংখ্যান সবসময় সঠিক সূচক নির্দেশ করে না। এ নিয়ে বিতর্ক থাকে। তবে জরিপের ফলাফল ধরে নিলেও এ কথা সত্য, বাংলাদেশের মানুষের ধৈর্য্য অনেক বেশি। তারা শত দুঃখ কষ্টেও ‘ভালো কিছু হবে’-এ আশায় থাকে। পুরোপুরি ‘ভালো কিছু’ না পেলেও আশার কিছু অংশ পূরণ হলেই তারা বেজায় খুশি হয়। আশার এই কিছু অংশই তাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। একে বলে অল্পতেই তুষ্ট এবং যা পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ বলে শোকর গুজার করা। তারা মনে করে, এই অল্পই একদিন অনেক বেশি হয়ে দেখা দেবে। আশার এই খেয়ালি আচরণ তারা মনে নিয়েছে। তা না হলে বাংলাদেশে যেসব অকল্পনীয় ও অচিন্তনীয় ঘটনা ঘটে, এসব ঘটনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দেশটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো, তা অনুমান করা কঠিন নয়। এজন্য আমরা বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলগুলো থেকে বলতে শুনেছি এবং এখনও শুনি, অমুক সরকার এই করেছে বলে দেশের এই অবস্থা হয়েছে। এই না করলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত। এখন তারা এই অবস্থা থেকে টেনে তুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা একটুও ভাবে না, তারা আশাভঙ্গের অনেক কাজ করলেও জনগণের আশাবাদী ও অল্পতে তুষ্ট হওয়ার অনাদিকালের চরিত্রের কারণেই বাংলাদেশের আশা টিকে আছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। যদি অল্পতে তুষ্ট না হতো, তবে সরকার যেসব ভুল করে, তাতে দেশে বছরের পর বছর গোলোযোগ লেগেই থাকত। জনগণের পরিমিত আশার কারণেই নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ অগ্রসরমান।বাংলাদেশেও সড়কে মৃত্যুর মিছিল নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতবছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হলেও পরিস্থিতির কোন দৃশ্যত পরিবর্তন নেই। কিন্তু এসব সড়ক দুর্ঘটনায় যেসব জীবন ঝরে যায়। তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু দুর্ঘটনা ঘটে যা বোধসম্পন্ন মানুষের মন দুমড়ে-মুচড়ে দেয়। ফে দুর্ঘটনা হলেও, মানতে বড় কষ্ট হয়। এমন দুর্ঘটনা প্রতিদিনই বাংলাদেশে ঘটে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে কিছু দুর্ঘটনা সব দুর্ঘটনার ‘মুখ’ হয়ে উঠে। এ নিয়ে কিছুদিন আলাপ-আলোচনা হয়, তারপর থেমে যায়। এমন আরেকটি দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত চৈতন্য জাগ্রত হয় না। অথচ এই চলমান দুর্ঘটনা জাতীয় জীবনে দুর্যোগ হয়ে রয়েছে। এই দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের যেন কোনো উপায় নেই।