ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় জরুরি

প্রকাশিত: ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২০
এই মুহূর্তে দেশে অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। খেটে খাওয়া মানুষের আয়রোজগারের ওপর সবচেয়ে বড় মার পড়েছে। দিনমজুরদের কাজ নেই। বাসাবাড়িতে কাজ করা আয়া বুয়াদেরও একই অবস্থা। এই শ্রেণীর মানুষের কাছে সাধারণত সঞ্চিত অর্থ থাকে না। ২৬ তারিখে অঘোষিত বিচ্ছিন্নকরণ শুরু হলে কার্যত সে দিন থেকেই তাদের অনেকের চুলায় হাঁড়ি চড়েনি। বাজার থেকে খাবার কেনার মতো অর্থ নেই।
এ দিকে আমরা দেখছি সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করছে এর বণ্টনের ওপর। যারা অনাহারে আছে ঠিক তাদের কাছেই খাদ্য পৌঁছাতে হবে। যে মানুষটি দিনের বরাদ্দ পেয়েছে তাকে আবার না দিয়ে যে এখনো পায়নি তার কাছে খাদ্য পৌঁছাতে হবে। সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, ঢাকার বস্তিগুলোতে অনাহারী মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাংবাদিকরা অনাহারী মানুষের হাহাকারের চিত্র তুলে এনেছেন। দিনমজুর, ফেরিওয়ালা, হোটেল ও দোকান কর্মচারী, রিকশা-ভ্যানচালক, বাসাবাড়ির কাজের বুয়াসহ অসংখ্য ছোটখাটো কাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।

দেশজুড়ে লক ডাউনে শ্রমজীবি সব মানুষ বেকার। প্রায় বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা কর্মহীন, এখন তাদের বেশির ভাগের খাবার নেই। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ ধরনের ত্রাণ জোটা বড় ভাগ্যের ব্যাপার। কারণ মুখ চিনে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর চেয়ে অনেকসময় রাজনৈতিক মোটিফ কাজ করে।

অনেকে রাস্তায় নেমে এসেছেন। তারা অপেক্ষা করছেন কোনো সাহায্য আসে কি না। এদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন অসুস্থ। বিভিন্ন জটিল রোগেও ভুগছেন অনেকে।

দেখা গেল, সাত আটজনের একটি পরিবার একজন মাত্র ব্যক্তির রোজগারের ওপর নির্ভর করে। বাকিরা বৃদ্ধ, রোগী কিংবা শিশু। ত্রাণ দেয়ার সময় সঠিক বিবেচনাবোধ কাজ করছে না। ফলে একজন প্রয়োজনের অতিরিক্ত পাচ্ছেন। আবার অনেকে একবারের জন্যও পাচ্ছেন না। তাই ত্রাণ কাজের মধ্যে সমন্বয় দরকার। এ কাজটি সরকারের পক্ষ থেকে করতে হবে। অনাহারী মানুষকে বাছাই করে তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে হবে। আগে থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ কার্যক্রম এ দেশে চালু আছে। এর ওপর বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে অনেকে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু সমন্বয় না থাকলে এ ধরনের ত্রাণ সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছবে না।

সারা দেশের ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের মধ্যে খাদ্যাভাব দেখা দেয়া স্বাভাবিক। ত্রাণ কার্যক্রম সঠিকভাবে চালানো গেলে সবার কাছে খাদ্য পৌঁছে দেয়া সম্ভব। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায় কি না সরকার ভেবে দেখতে পারে। সরকারি-বেসরকারি সব ত্রাণ এক ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে অভাবী মানুষকে চিহ্নিত করে তা বিতরণ করা যেতে পারে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে কিছুসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারায়। অন্য দিকে খাদ্যের সঙ্কটে পড়লেও তার রেহাই নেই। এখন এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। করোনার চেয়ে খাদ্যাভাব মোটেই সামান্য সঙ্কট নয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য অচিরেই সুচারু প্রস্তুতি দরকার। না হলে এ থেকে মানুষের বড় বিপর্যয় হতে পারে।