করোনায় প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে, প্যানেলে শিক্ষক নিয়োগের আহ্বান

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পরেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১.৫ কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তবে শিক্ষার্থীর অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক অদৃশ্যমান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)’র তথ্যমতে, সারা দেশে ২ লাখ ৯০ হাজার ৬০০ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদ বিদ্যমান, যেখানে বর্তমানে ২ লাখ ৪৭ হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।এখানে স্পষ্টত ৪৩ হাজার ৬০০ শূন্য পদ বিদ্যমান।

তাছাড়াও প্রতিদিন অবসর, মৃত্যু, অন্য চাকুরিতে যোগাদান এর ফলে ২০০ পদ শূন্য হচ্ছে।প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে, এই শূন্য পদগুলো যথাসময়ে পূরণ করা, অসাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠেছে। প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হলেও তা রিট জটিলতার ফলে ২০১৮ তে সম্পূর্ণ হয়।আবার সর্বশেষ ২০১৮ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা ২০২০ সালে সম্পূর্ণ করা হয়।

বিশেষ উল্লেখ্য, সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ লাখ প্রতিযোগি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে, যেখানে মাত্র (২.৩%) হারে ৫৫ হাজার প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হলেও চূড়ান্তভাবে ১৮ হাজার ১৪৭ প্রার্থীকে পদায়ন করা হয়। বাকি ৩৭ হাজার প্রার্থী নিয়োগ বঞ্চিত হন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনাব ফসিউল্লাহ স্যার ‘দৈনিক শিক্ষা’ অনলাইন মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “প্রাথমিকে ভাইবায় কোন পাশ/ফেল নেই।” যেহেতু স্পষ্টত শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও ৩৭ হাজার প্রার্থী নিয়োগ বঞ্চিত হোন, তাই পরবর্তীতে শূন্য পদের ভিত্তিতে প্যানেল করে সবাইকে নিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে জনাব ফসিউল্লাহ স্যারের কাছে জানতে চাইলে উনি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘কোয়ালিটি’ বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী কোটা প্রথা বিদ্যমান থাকার ফলে, অনেকেই নামে মাত্র পাশ মার্ক পেয়েই নিয়োগ পেয়েছেন।অপর দিকে, ভালো মার্ক পেয়েও কোটা প্রথার কারণে মেধাবীগণ নিয়োগ বঞ্চিত হোন। কাজেই নিয়োগ বঞ্চিতদের কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন করা আপত্তিকর! টেকসই উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য মাত্রা ‘সকলের জন্য শিক্ষার সমান পরিবেশ তৈরি করা’ বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট দূরীকরণ প্রয়োজন।

কাজেই করোনা পরবর্তী ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিকে প্যানেল গঠন করে নিয়োগ দেওয়া অধিক যুক্তিসংগত। এতে শিক্ষক সংকট দূর হবে, এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার, “মুজিববর্ষে কেউ বেকার থাকবে না।” তা বাস্তবায়নে অন্যতম ভূমিকা পালন করবে।

লেখক-
মো.শামীম হাসান
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল প্রত্যাশী ২০১৮,
নেত্রকোনা জেলা।