আর কত ধর্ষিত হলে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে!

প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

দেশে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ধর্ষণ। ধর্ষণের ইচ্ছা কতটা অদম্য? কতটা প্রবল, কতটা নিয়ন্ত্রণহীন? ধর্ষণের উত্তেজনা কতটা তৃপ্তিদায়ক? কী সেই প্রাপ্তি, কতটা আকাঙ্খিত সেই শারীরিক আনন্দ যা একা বা দলবেঁধে উপভোগ করার মতো ঘটনায় পরিণত হয়? ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না কন্যাশিশু, তরুণী ও বৃদ্ধ নারীরাও। এমনকি রেহাই পাচ্ছে না বাক বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরাও। এমনকি কাউকে কাউকে নিজের সন্তানকেও ধর্ষণ করতে ধাবিত করে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণ শেষে নির্মম নির্যাতন, এমনকি চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে, শ্বাসরুদ্ধ করে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

এই দেশে একটা দিনও বাদ যায়না যেদিন কোন ধর্ষণের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার হয় না। তবুও এর প্রতিবাদে মানুষের ঢল নামে না। বৃহত্তর আন্দোলন দানা বাঁধতে মানুষের লাভ ক্ষতির হিসাব আর আবেগের মিশেল লাগে। ধর্ষণের প্রতিবাদে এই দুটোরই অভাব আছে। ধর্ষণ এই সমাজের কাছে কেবলই ধর্ষণের শিকার নারী আর তার পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়।

যদিও নারীর নিরাপত্তা চাই’, ‘নারীরা অনিরাপদ কেন?’, ‘আর কত নারী ধর্ষিত হলে রাষ্ট্র জাগবে?’, ‘ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করো’- এ ধরনের নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় জড়ো হয় বহু নারী-পুরুষ। তাদের সবার চোখে-মুখে জ্বলছে প্রতিবাদের অগ্নিশিখা। কিন্তু কোন কোন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা ভিকটিমের প্রভাবশালীমহল তাদের সেই প্রতিবাদের জলন্ত শিখাকে নিভিয়ে দেয়।

ধর্ষণ বন্ধে পুরুষকেই জাগতে হবে সবার আগে। তাদের বুঝতে হবে, নারীর পোশাক বা অন্য কিছু নয়, পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত ও বিকৃত যৌন আকাঙ্খাই ধর্ষণের সবচেয়ে বড় কারণ এবং পুরুষের সবচেয়ে বড় অসুস্থতা।

অনেক তো হলো, আর কত? এবার জেগে উঠুন পুরুষ বন্ধুরা। সবাই এতটুকু সৎ সাহস দেখান। লাগাম পড়ান নিজের বিকৃত যৌনাকাঙ্খায়। যতদিন পর্যন্ত না আপনারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, ততদিন ধর্ষণের এই মহামারী বন্ধ হবে না। যতই আইন হোক, যতই কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির বিধান রাখা হোক, যতই হারকিউলিসের আবির্ভাব ঘটুক, কিচ্ছু হবে না। আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

লেখক
মোঃ মতিউর রহমান
বেসরকারি চাকুরীজীবি ও লেখক।