দুর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে বালু মহালের ইজারাদার ঝুলন কুমার সাহা । গতকাল শনিবার রাতে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

এই সময় লিখিত এক বক্তব্যে তিনি জানান, সোমেশ্বরী নদীর ৩ নাম্বার ঘাটের ১২ কোটি ৪ লক্ষ টাকার ইজারা মূল্যে সরকারের কাছ থেকে ১৪২৭ বাংলা সনের ১লা বৈশাখ হতে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ইজারা নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় করোনা ভাইরাসের কারনে ২ মাস বিলম্বে কার্যাদেশ প্রদান করে উক্ত বালু মহালটি সীমানা নির্ধারন পূর্বক বালু মহালটি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বালু মহাল বুঝে পাওয়ার পর স্থানীয় অর্থলোভী প্রকৃতির উপজেলা চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস ঝুমা তালুকদার তাঁর সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী দ্বারা আমার কাছে প্রতিনিয়ত মোটা অংকের চাঁদা না দাবী করে আসছে।

ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার চাঁদা না দিতে অস্বীকার জানালে আমাকে বিভিন্ন ভাবে প্রাননাশের হুমকি সহ আমার বালু মহালে বালু পরিবহনকারী প্রতিটি গাড়ি হতে জোর পূর্বক মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে টাকা না পেয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।

বিগত ১০ জুলাই ২০ইং বেলা ৪ টা ৩০ ঘটিকার সময় তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ইজারাকৃত সীমানার মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ড্রাইভার, হেলপারের কাছে চাঁদা দাবী করে। তারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে জোরপূর্বক রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।
বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্গাপুর থানার অফিচার ইনচার্জকে অবহিত করি। এবং তাৎক্ষণিক ঘটনাটি পর্যবেক্ষণে আমার কয়েকজন লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার লোকজনের উপর অর্তকিত ভাবে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই সময় আমাকে এই সন্ত্রাসী বাহিনী মেরে ফেলার চেষ্টা করলে স্থানীয় কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীগন আমাকে উদ্ধার করে।

রাজস্ব আদায়ের কানিয়াইল ও সাগরদীঘি পাড়ের দুটি অফিস ভাংচুর করে অনুমানিক ১,৫০,০০০ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী বাহিনীরা।
লিখিত বক্তব্য পাঠের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন আকঞ্জি , যুবলীগ সভাপতি আব্দুল হান্নান, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রমূখ।

ইজারাদার ঝুলন কুমার সাহা আরো বলেন, বালু মহালটি বন্ধ হয়ে গেলে সরকারের রাজস্ব আদায় ও শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান ও আমার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি রোধকল্পে ও বালুমহালের সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজি বন্ধ করার নিমিওে আপনাদের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। বিগত সময়েও এই ঘাট নিয়েই উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান সাদ্দাম আকঞ্জি লোকজনকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করে উপজেলা চেয়ারম্যানের পালিত এই সন্ত্রাস বাহিনী।