কুলাউড়ায় ইউএনও’র অভিযানে পানজুমসহ ৫ একর ভূমি উদ্ধার

আব্দুল কুদ্দুস আব্দুল কুদ্দুস

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২০

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় প্রশাসনের অভিযানে খাসিয়াদের পানজুমসহ ৫ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৯ নভেম্বর) কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে র‌্যাব ও পুলিশের সহায়তায় প্রায় ৩ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে এই ভূমি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া পুঞ্জির মৃত মোহন খাসিয়ার ছেলে জসপার আমলরংয়ের কাটাবাড়ী পানজুমটি একই ইউনিয়নের টাট্টিউলি গ্রামের মৃত ছত্তার আলীর ছেলে রফিক মিয়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে জোরপূর্বক দখল করেন। প্রায় দেড়মাস দখলে থাকা ওই জুম থেকে রফিক মিয়া পেশীশক্তির বলে পান, লেবু, পেঁপে, কলা ও সুপারী তুলে নেন। রফিক মিয়ার দাবী এই ভূমির মালিক তিনি নিজে। কিন্তু ভূমির দলিল যাচাই-বাচাই করে এর সত্যতা পায়নি প্রশাসন। সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রশাসন, র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন, র‌্যাব শ্রীমঙ্গল-৯ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, এসআই আব্দুর রহিমসহ র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর ৩০ সদস্যের একটি দল ছিলেন। উচ্ছেদ অভিযানের সময় জুমে নির্মিত দুটি কাঁচা ঘর ও একটি আধাপাকা ঘর গুড়িয়ে ফেলা হয় এবং অবৈধ বিদ্যুৎলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের টের পেয়ে দখলকারী রফিক মিয়া পালিয়ে যান। তবে দখলকৃত স্থানের একটি ঘরে থাকা দু’জন মহিলা শ্রমিককে আটক করা হয়। তাদের একজন কুলাউড়ার গাজীপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর স্ত্রী লতিফা বেগম (৪৫) ও অপরজন কর্মধার টাট্টিউলি গ্রামের মৃত তছির আলীর স্ত্রী রোশনা বেগম (৪০)।

আটককৃত মহিলারা জানান, দখলকারী রফিক মিয়া মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতন দিবে বলে শ্রমিকের কাজ করাতে তাদের ভাড়া করে এনেছে। পরে আটক ওই দুই মহিলাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে লিখিত মুচলেখা নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিলভেস্টার পাঠাংয়ের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। পান জুমের মালিক জসপার আমলরং বলেন, ভূয়া দলিলের মাধ্যমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের আধারে পানের জুমটি দখল করে প্রভাবশালী রফিক মিয়া। তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রচেষ্টায় আমার পানের জুমটি ফিরে পেয়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ।

গত দেড় মাস যাবৎ পানজুম রফিক মিয়ার দখলে থাকায় প্রায় দশ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান, কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আদিবাসী নেত্রী ফোরা বাবলী তালাং। তিনি জানান, কাটাবাড়ি পানজুমের মালিক জসপার আমলরং দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন থেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এদিকে রফিক মিয়া একজন প্রভাবশালী লোক। পেশীশক্তির মাধ্যমে জুমটি তিনি তার দখলে রেখেছিলেন। ইউএনও’র নেতৃত্বে পানজুম উদ্ধার হওয়ায় তিনি প্রশাসনকে সাধুবাদ জানান এবং এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রফিক মিয়া সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পানজুম তার দখলে রেখেছিল। কারণ প্রশাসনের প থেকে দু’পকে নিয়ে বসার চেষ্টা করলেও রফিক মিয়া আসেননি, এমনকি তিনি তার দলিলও দেখাতে পারেনি। দলিল যাচাই-বাচাইয়ের জন্য ঢাকা সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ভূমির দলিল যাচাই-বাচাই করে রফিকের মালিকানার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে পানজুম দখলমুক্ত করে দিয়েছি। এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান।