মদনে বড় বোনকে বিয়ে না দেয়ায় ছোট বোনকে ধর্ষণ

প্রকাশিত: ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২১

নেত্রকোনার মদনে চাচাতো বড় বোনকে বিয়ে না দেয়ায় ছোট বোনকে(১০) ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের প্রতিবেশী সমুজ আলীর ছেলে জাকিম মিয়ার (২২) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামে।

মেয়েটি রুদ্রশ্রী বায়তুল কোরআন কওমী মাদ্রাসার ৫ম শ্রেনির ছাত্রী। ঘটনার পর থেকেই নানান হুমকির জন্য ধর্ষণের স্বীকার মেয়েটির পরিবার চুপ রয়েছে।বুধবার সরজমিন রুদ্রশ্রী গ্রামে গেলে ধর্ষনের স্বীকার ওই মেয়েটির পরিবার ও স্থানীয়রা বলেন, জাকিম মিয়া আগে থেকেই তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। এর সুবাধে ওই মেয়েটির চাচাতো বোন কে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ধর্ষণের স্বীকার মেয়েটির বাবা অসম্মতি প্রকাশ করে। এক মাস আগে তার চাচাতো বোনকে অন্যত্রে বিয়ে দেয়ার পর থেকেই জাকিম তাদের কে দেখে নিবে বলে হুমকি দিয়ে আসে।

গত বৃহস্পতিবার(২১ জানুয়ারি) রাতে ওই মেযেটির বাবা বোরো জমিতে সেচ দিতে হাওরে চলে যায়। খাওয়া দাওয়া শেষে পরিবারে লোকজনের সাথে নিজ ঘরেই ঘুমিয়ে পড়ে মেয়েটি। প্রতিবেশী জাকিমসহ আরো ৩/৪ জন তাদের বসত ঘরের দরজা চিটকারী ফাকঁ করে ভিতরে প্রবেশ করে মেয়েটির মুখে কাপড় চাপা দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বাড়ির সামনে পতিত জমিতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে জাকিম ধর্ষণ করলে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়ে। তার বাবা জমিতে সেচ দিয়ে বাড়ি আসার সময় তার মেয়েকে বাড়ির সামনে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে। পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি নিয়ে আসলে মেয়েটি সব ঘটনা পরিবারের লোকজনের কাছে খুলে বলে।

ধর্ষনের স্বীকার মেয়েটির বাবা বলেন, প্রতিবেশী সমুর আলীর ছেলে জাকিম আমার বড় ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি এতে অসম্মতি প্রকাশ করি। এক মাস আগে আমার ভাতিজীকে অন্যত্রে বিয়ে দিয়েছি। এর পর থেকেই জাকিম আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার রাতে আমি জমিতে সেচ দিয়ে হাওর থেকে আসার সময় দেখতে পাই বাড়ির সামনের জমিতে অচেতন অবস্থায় আমার মেয়ে পড়ে রয়েছে। বাড়িতে আনার পর জ্ঞান ফিরলে ওখানে কিভাবে গেলে জানতে চাইলে ধর্ষণের ঘটনা বলে। এই ঘটনার পর থেকে কাউকে কিছু না বলতে তার পরিবারের লোকজন আমাকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি এর বিচার চেয়ে আজকে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করবো।

মেয়েটির মা বলেন, আমার শিশু মেয়েটিকে জাকিম ধর্ষণ করেছে। আইনের আশ্রয় নিলে আমাদের কে গ্রাম ছাড়া করবে বলেছে। আমরা গরীব মানুষ তাই ভয়ে চুপ করে আছি।

জাকিমের মা তাজমহল বেগম বলেন, পাশের বাড়ির কতুব উদ্দিনের মেয়ে সাথে আমার ছেলের প্রেমের সর্ম্পক ছিলো। আমরা বিয়ের জন্য তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সাথে কথা দিয়ে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়েছে। আমার ছেলেকে ফাঁসাতে কতুব উদ্দিনের ভাইয়ের মেয়েকে ঘর থেকে অন্য কেউ নিয়ে এমন কাজ করেছে মনে হয়। ছেলে কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে গেছে।

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শুনেছি রুদ্রশ্রী গ্রামে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।

মদন থানার ওসি মাসুদুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।