পঙ্গু বাবার জন্য আর খাবার নিয়ে যাবে না তানিয়া!

প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১

পঙ্গু বাবার জন্য আর কোন দিন খাবার নিয়ে যাবেনা তানিয়া আক্তার। তার বাবাও বলবেনা তানিয়া আমার খাবার নিয়ে আয়। কথাগুলো বলছিলাম পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের খারচাইল গ্রামের নূরুল হকের মেয়ে তানিয়া আক্তারের কথা। প্রতিদিনের মতো বাবার জন্য খাবার নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুত গতির ট্রাক কেড়ে নেয় তার প্রাণ। মঙ্গলবার (২ মার্চ) বাবার জন্য রাতের খাবার নিয়ে শ্যামগঞ্জ বিরিশিরি সড়কের উপজেলার আাতকাপাড়া নামক স্থানে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিরিশিরিগামী দ্রুতগতি একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট -১৮-৫৮২১) তাকে চাপা দিলে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। দূঘর্টনার পর পর উত্তেজিত জনতা শ্যামগঞ্জ বিরিশিরি সড়ক অবরোধ করে রাখে এবং সড়কে চলাচলকারি বেশ কয়েকটি ট্রাকের গ্লাস ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

স্থানীয় লাটুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া পঙ্গু পিতার ভরসা ছিল। তিন বোন ও এক ভাই নিয়ে তাদের পরিবার। স্কুল ছুটির পরপরই বাবা মুদি দোকানে বসে বাবার ব্যবসায়ী কাজেও সময় দিত। বাবার ভিটে মাটি ছাড়া কিছুই নেই। পূর্বধলা হেল্প লাইনের সহযোগিতায় দিলরুবা শিক্ষা ফাউন্ডেশন নামের একটি সামাজিক সংগঠন তানিয়ার বাবাকে ২০ হাজার টাকা মালামালসহ ব্যবসা করার জন্য একটি মুদির দোকান করে দেন।

শ্যামগঞ্জ জারিয়া বিরিশিরি সড়ক যেন মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে প্রতিমাসে গড়ে ৫/৭ জন মৃত্যুসহ সড়ক দূঘর্টনা ঘটছে। প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরনের মৃত্যুর মিছিল কি দীর্ঘ হতেই থাকবে? দুঃখজনক হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা কিছুতেই কমছে না, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। অবস্থা ‘মহামারি’ আকার ধারণ করেছে বললেও অত্যুক্তি হয় না। একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেকটি ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর থাকছে। এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও অনেক। এর প্রতিকার অত্যন্ত জরুরি। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিবারে গভীর শোক, ক্ষত সৃষ্টি করে না, আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে ফেলে ওই পরিবারকে। কোনো কোনো দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি প্রাণ হারান। তখন ওই পরিবারের যে কী অবস্থা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করে তাদের পরিবারের অবস্থা আরও করুণ, আরও শোচনীয়।

সম্পতি দূর্ঘটনা মহামারির আকার ধারণ করায় যেসব কারণকে দায়ী করা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো। এ সমস্যা বারবার চিহ্নিত হলেও এর কোনো প্রতিকার নেই। সঙ্গত কারণেই দোষীদের শাস্তিও হয় না। সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু শ্রেণির মানুষ— যারাই দুর্ঘটনার শিকার হন না কেন, কোনো একটি ঘটনার বিচার হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত মেলা ভার। বিচারহীন, প্রতিকারহীন অবস্থা অপরাধকে পরক্ষে প্রশ্রয় দেয়ারই নামান্তর। অপরাধীর বিচার না করায় তার অপরাধপ্রবণ মনকে আরও অপরাধে উৎসাহিত করে। এ সমস্যাটি সমাধানে দিনের বেলায় ট্রাক চলাচল বন্ধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সর্বসাধারণ দাবি জানিয়েছেন।