পূর্বধলায় নিয়মনীতি অমান্য করেই চলছে ইন্টারনেট ব্যবসা

প্রকাশিত: ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২১

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কোন প্রকার নিয়মনীতি না মেনেই চলছে ইন্টারনেট (আইএসপি) ব্যবসা। সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ নিয়ে অবৈধভাবে ইন্টারনেট ব্যবসা করছে “ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেট” ও “এএসটিটি কমিউনিকেশন” নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। পূর্বধলা সদরের বাজার জামে মসজিদ রোড সংলগ্ন ও জামতলা এলাকায় বাংলালিংক টাওয়ারের পাশে অফিস খোলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দুটি প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মেহেদী বলেন, তারা নিয়মনীতি মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাদের কোনো লাইসেন্স নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইন্টারনেশনাল সার্ভিস প্রোভাইডার আইসিসি কমিউনিকেশনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছি। তাদের দাবি, এ সংক্রান্ত সকল কাগজ তাদের হাতে রয়েছে। বিল ভাউচার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আইসিসি কমিউনিকেশনের নামে বিল ভাউচার করা হচ্ছে দাবি করলেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিল ভাউচার ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে।

একই বিষয়ে “এএসটিটি কমিউনিকেশনের” পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, জোনাল লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ আইটির সেবা পরিচালনা করছেন। তাদের প্রতিষ্ঠান এএসটিটি কমিউনিকেশনের নামে ট্রেড লাইসেন্স করা আছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল নেওয়া রশিদে ভিন্ন নাম রয়েছে। ঐ প্রতিষ্ঠান গুলোর প্যাকেজেরও ভিন্নতা। অফিসে ঝুলছে লাইসেন্স বিহীন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। বিটিআরসি ওয়েব সাইটের তথ্য অনুযায়ী “ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেট” ও “এএসটিটি কমিউনিকেশন” এই দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে কোন নিবন্ধন নেই। তবে সংবাদের তথ্য সংগ্রহের খবর পেয়ে “ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেট” এর অফিসের তড়িগড়ি করে নতুন একটি আইসিসি কমিউনিটির নামে প্যানা লাগানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহ জোনাল লাইসেন্সধারী অনিক কম্পিউটার এন্ড নেটওয়ার্কিং-এর আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, যে কোনো লাইসেন্স এর মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবসা পরিচালনার করার কোন সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহ জোনাল লাইসেন্সদারী মায়া সফট এর আইটি বিশেষজ্ঞ বলেন, কোন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান যদি ব্যবসা করতে চায়, তবে যে ব্যক্তির মাধ্যমে করবে সেই ব্যক্তির কোনো পরিচয় থাকবে না। সকল কিছু ঐ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নামে থাকতে হবে। যেমন ট্রেড লাইসেন্স, গ্রাহক বিল, অফিস সাইনবোর্ড, এমন কি ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রাইজলিস্টও একই হবে। কিন্তু আইসিসি কমিউনিকেশন এর যেখানে ৫ এমবিপিস ৬০০ টাকা রেট করছে সেখানে বিল কপিতে দেখা যাচ্ছে ২ এমবিপিএস ১০০০ টাকা, প্রায় কাছাকাছি ভাবে চলছে অপর প্রতিষ্ঠানটিও।

আইসিসি কমিউনিকেশন এর ময়মনসিংহ ডিভিশনাল ম্যানেজার রাজেশ সরকার বলেন, এমন অসংগতি সম্পর্কে জানা নেই। যদি এমন হয় তবে আমরা ব্যবস্থা নিব।

অপর দিকে ক্রিয়েটিভ আইটির থেকে সোহেল বলেন, এমন কার্যক্রম হলে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যদিও বিটিআরসি এর নিয়ম অনুযায়ী কোন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স বিহীণ কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যান্ডউইথ দিতে পারবে না।

পূর্বধলার একজন আইটি বিশেষজ্ঞ বলেন, কানেকশান যেভাবে দেয়া হচ্ছে এতে আইপি অ্যাড্রেস ঠিক থাকছে না, এখানে একটি আইপি অ্যাড্রেসের মাধ্যমে অসংখ্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংযোগ প্রদান করা হয়। ফলে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর আলাদা আলাদা আইপি অ্যাড্রেস থাকে না। যার ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা ক্রমশ দুরূহ হয়ে পরবে যার ফলে এই অবৈধ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে অপরাধীরা সাইবার অপরাধ, ভূঁয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে সম্মানী লোকের সম্মানহানি, ফেসবুকে সরকার বিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িয়ে পড়বে।

জানা গেছে, ২০০১ সালের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধান অনুযায়ী সাইবার ক্যাফে পরিচালনা, ইন্টারনেট সেবা প্রদানসহ যে কোন টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের জন্য কমিশন হতে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু “ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেট” ও ” এএসটিটি কমিউনিকেশন” নামের প্রতিষ্টান দুটি লাইসেন্স ছাড়াই ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। টেলিযোগাযোগ আইনের ৩৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, লাইসেন্স ব্যতীত টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ সেবা প্রদান করা একটি অপরাধ। এজন্য আইনে অনধিক ১০ বছর কারাদন্ড ও অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডণীয় করার বিধান রয়েছে। গত ২০১৬ সালের ২০ মে বিটিআরসি একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, বিভিন্ন ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা আইএসপি লাইসেন্সের শর্ত না মেনে বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা। অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ফাইবার ভাড়া, ভাগাভাগি করা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া। কেবল টিভি অপারেটরদের মাধ্যমে আইএসপি ব্যবসা করা। গ্রাহকের বিলের কপি ও ফরম সংরক্ষণ না করা এবং নিয়মিত কর পরিশোধ না করা।

স্থানীয় একজন গ্রাহক ও মর্ডান কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক রুহুল আমীন জুয়েল বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী চান ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে। আমরাও চাই ন্যায্য মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে ও ডিজিটাল সেবা সাধারণ মানুষকে পৌছে দিতে। কিন্তু এখানে আমরা ন্যায্য দাম ও গতি পাচ্ছি না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।