ধর্মপাশায় ভাইস চেয়ারম্যান বিল্লালের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২১

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনের (বিল্লাল নূরী) বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিল্লালের এমন কার্যকলাপের বিষয়টি একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী তার ফেসবুকে শেয়ার করলে বিষয়টি সামনে আসে। তাই বিল্লালের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারকে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, বিল্লাল কখনও নিজে আবার কখনও তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের নিরীহ মানুষদের নলকূপ, খাস জমিসহ সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। পরে উপকার প্রত্যাশীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগীরা কাঙ্কিত উপকার না পেয়ে তার সাথে দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তেমনিভাবে টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেরিকান্দি গ্রামের মঞ্জিল হক নামের এক কৃষক। মঞ্জিল হকের কাছ থেকে বছর দেড়েক আগে বিল্লাল তার লোক দিয়ে নলকূপ দেওয়ার কথা বলে সাড়ে ৮ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু মঞ্জিলকে নলকূপ পাইয়ে দিতে পারেননি বিল্লাল। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বেরিকান্দি গ্রামের শিক্ষার্থী সানজিদ আহমেদ সজিব মঞ্জিলের টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। সজিব এ নিয়ে ইউএনওর সাথে কথা বলেন। বিল্লাল ইউএনওর সামনে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও পরে আর সেই টাকা ফেরত দেননি। অবশেষে সেই টাকা ফেরত না পেয় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন মঞ্জিল। তাই ওইদিন রাতেই সজিব বিল্লালের এমন কার্যকলাপের বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করেন। এরপর থেকে বিল্লালের লোকজন সজিবের পরিবারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বিল্লাল দাবি করেছেন মঞ্জিলের দাফনের আগে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মঞ্জিলের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, তাঁরা এখনও টাকা পাননি।শুধু মঞ্জিল নয়, বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের হানিফ ফকিরের কাছ থেকে খাস জমি বন্দোবন্ত নেওয়ার নাম করে ১ বছর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন বিল্লাল। সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা উত্তরপাড়া গ্রামের হাবি মিয়ার কাছ থেকে বিল্লাল নলকূপ দেওয়ার কথা বলে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে।

পাইকুরাটি ইউনিয়নের জিংলীগড়া গ্রামের আলম মিয়া জানান, রাজাপুর, হিজলাসহ কয়েকটি গ্রাম থেকে নলকূপের কথা বলে লাখ খানেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিল্লাল।

অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন (বিল্লাল নূরী) বলেন, ‘মঞ্জিলের টাকা তার দাফনের আগেই ফেরত দেওয়া হয়েছে। সজিব ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করবো। টিউবওয়েলের জন্য নেওয়া ১০/১২ জনের মধ্যে কয়েকজনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যান বলেছিলেন মঞ্জিলের টাকা ফেরত দিয়ে দিবেন। শুনেছি টাকা নাকি ফেরত দেওয়া হয়েছে। যদি আরও এমন কেউ থাকে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখবো।’