পূর্বধলা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২১

নেত্রকোণার পূর্বধলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে অপমান, অসম্মান ও লাঞ্চিত করার কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম সুজনকে উভয় পদ থেকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে পূর্বধলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার আইয়ুব আলী, মো. নিজাম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রউফ তালুকদার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলীয় পদ থেকে জাহিদুল ইসলাম সুজনকে অপসারণ করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

স্মারকলিপিতে মুক্তিযোদ্ধারা উল্লেখ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কোন প্রকার সম্মান বোধ নেই ।

সে বিগত বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভায় উপজেলা হলরুমে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রব তালুকদার একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবে আসন গ্রগণ করলে সভা চলাকালীন সময় উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে আসন ছেড়ে দিয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বসার নির্দেশ দেন।যাহা সকল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে অপমানিত করে।

বিগত জুলাই মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির এর বাড়ির রাস্তা নির্মাণ কাজে উপজেলা চেয়ারম্যান বিরোধিতা করেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্যে নেত্রকোণা জেলার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সহ সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে বলেন আপনারা মুক্তিযুদ্ধ করে আমাদের বিপদে ফেলেছেন।

বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী সভায় যুদ্ধকালীন প্লাটুন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ কে রাগান্বিত হয়ে প্রশ্ন করেন আপনি কি যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন?

একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের বিচার করতে গিয়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুজিব বর্ষের উপহার (ঘর) রাজাকারের সন্তানদেকে পাইয়ে দেওয়াসহ নানান ধরনের অভিযোগ রয়েছে ঐ স্মারকলিপিতে।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কেউ ফোন রিসিভ করেনি।