দুর্গাপুরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২২

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখায় এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার মেয়র মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া ওই সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ তাঁর বাসার গেট ও দুটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ওই সাংবাদিক শুক্রবার দুপুরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিকের নাম রিফাত আহমেদ (২৮)। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভি ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর দুর্গাপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি সেভ দ্য অ্যানিমেল অব সুসং দুর্গাপুর নামে একটি সংগঠনের আহ্বায়ক।

জানতে চাইলে মেয়র আলাউদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রিফাতকে ডেকে এনে শাসন করেছি। ফেসবুকে আমার নাম উল্লেখ না করলেও আমার বিরুদ্ধে আগে নিউজ করেছে। তাকে গালিগালাজ করেছি, অস্বীকার করছি না। সে আমার প্রতিবেশী, শাসন করতেই পারি। তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না।’

স্থানীয় বাসিন্দা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর জেলা প্রশাসন থেকে সোমেশ্বরী নদীর পাঁচটি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি চক্রের সদস্যরাই প্রতিবছর বালুমহালের ইজারা পান। ওই চক্রের প্রধান পৌর মেয়র আলাউদ্দিন। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ইজারাদারেরা বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করেন। শত শত ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হয়।

সাংবাদিক রিফাত বালু নিয়ে প্রতিবেদনসহ গত বুধবার সন্ধ্যায় ‘বালুমহাল ইজারার নামে সোমেশ্বরী নদী ধ্বংসের কথা’ উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তবে স্ট্যাটাসে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু ওই স্ট্যাটাসে ক্ষুব্ধ হন মেয়র আলাউদ্দিন। তিনি রাতে রিফাতকে বাসায় ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বালুর নিচে পুঁতে মেরে ফেলার হুমকি দেন। সে সময় ধারণ করা ৯ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের একটি অডিওতে রিফাতকে এলাকাছাড়া করার কথা শোনা যায়। ওই রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে মেয়র ও তাঁর লোকজন রিফাতের বাবা রফিকুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে হুমকি-ধমকি দেন। ওই দিন গভীর রাতে রিফাতের বাসার গেট ও সামনের দুটি দোকানে ভাঙচুর করা হয়।

এ বিষয়ে রিফাত আহমেদ বলেন, ‘আমি সোমেশ্বরী নদীর বালু উত্তোলন নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রতিবেদন করেছি। এর পর থেকেই বালু ব্যবসায়ীরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত। বুধবার পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। সেখানে কারও নাম উল্লেখ করিনি। বালুমহাল ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। ব্যক্তিগতভাবে মেয়র ক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীও গালমন্দ করেন। হুমকির পর থেকে আমি আত্মগোপনে রয়েছি। আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রিফাত আহমেদের অভিযোগটি পেয়েছি। তাঁর বাসার সামনে কে বা কারা গিয়েছিল, তা জানতে পারিনি।’ এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।